‘ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে বিভক্ত হতে দেবো না’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশকে আমরা ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত হতে দেবো না। ধর্মের নামে কোনো বাড়াবাড়ি ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না। কোনো ধার্মিক ব্যক্তি অন্য ধর্মের মানুষকে ক্ষতি করতে পারে না। এ দেশের চারটি ধর্মের মানুষ—মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—যুগ যুগ ধরে একসঙ্গে বসবাস করছে। এর প্রমাণ বাংলাদেশের জনগণ।”
শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা দেখেছি এ দেশে বংশানুক্রমে ক্ষমতা চলে। রাজা হলে রাজা হয়—এ ধারা আমরা পাল্টাতে চাই। একজন সাধারণ শ্রমিকের সন্তান যদি মেধাবী হয়, আমরা চাই তার মেধার বিকাশ ঘটিয়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হোক। ভোটের সময় নেতারা জনগণের কাছে দরবেশ বা বসন্তের কোকিলের মতো উপস্থিত হয়। উন্নয়নের ফিরিস্তি দেন—পদ্মা, মেঘনা, কুশিয়ারা নদী ভাসিয়ে দেন। কিন্তু ভোট শেষ হলেই তারা অদৃশ্য হয়ে যান।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৫৪ বছর পার হয়েছে। একটি জাতিকে উন্নয়নের পথে এগোতে যথেষ্ট সময় ছিল। ভিয়েতনাম আমাদের পরে স্বাধীনতা পেলেও আজ সে অঞ্চলীয় উন্নয়নের রোল মডেল। কিন্তু বাংলাদেশের কপালে উন্নয়ন নেই। সন্ত্রাস, নিরাপত্তাহীনতা, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতি সমাজকে ছেঁয়ে রেখেছে।”
জামায়াতের আমির উল্লেখ করেন, “যে দেশের মানুষের পরিশ্রম অন্য দেশের অর্থনীতিকে সচল করতে পারে, তার ভাগ্য কেন পাল্টাচ্ছে না? কারণ অসৎ নেতৃত্ব।”
তিনি অঙ্গীকার করে বলেন, “আমরা নির্বাচনের মাঠে এসেছি। ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করবো, ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম নষ্ট হবে না, ফুটপাতের হকারকে বাধা দেয়া হবে না এবং দুর্নীতি আর সাহসীভাবে করা যাবে না।”
জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব যুবায়ের, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমির ও হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী আবদুল বাসিত, একই দলের মহাসচিব ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী আহমদ আব্দুল কাদির, ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
এসি//