অর্থনীতি

সবজির বাজারে স্বস্তি, নাগালের বাইরে মাছ-মাংস

রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতের সবজিতে স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্যের চাপের পর বেশির ভাগ সবজির দাম কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে নেমে আসায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে সরবরাহ বাড়লেও টমেটো ও শসার দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।

শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। বাজারে এখন মুলা ও শালগম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা, শিম, বেগুন ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, আর পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৪০ টাকায়। ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে পিসপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং আলুর দাম নেমেছে কেজিতে ৩০ টাকায়।

তবে বিপরীত চিত্র টমেটো ও শসার ক্ষেত্রে—পাকা টমেটো ও শসা এখনো কেজিপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম আরও বেশি, কেজি ১২০ টাকা। এছাড়া গাজর ৫০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৪০ টাকা এবং পেঁয়াজের ফুল প্রতি মুঠো ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, মৌসুমে সবজি উঠতে শুরু করায় সরবরাহ বেড়েছে বলেই দাম কমেছে। বর্তমানে বাজারে সবজির ঘাটতি নেই। তবে পরিবহন খরচ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমলে দাম আরও নিচে নামতে পারত। 

এদিকে, সবজির তুলনায় মাছ ও মাংসের বাজারে এখনো চাপ রয়ে গেছে। বড় মাছ যেমন রুই, কাতল ও বোয়াল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৫২০ টাকায়। মাঝারি আকারের তেলাপিয়া ও পাঙ্গাসের দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। তবে ছোট দেশি মাছের দাম কমেনি—কৈ, শিং, টেংরা ও পুঁটি মাছের কেজি ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকার নিচে নামছে না।

মাংসের বাজারেও একই অবস্থা। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা, আর ভালো মানের মাংস কোথাও কোথাও ৯০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের কেজি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। ফলে অনেক ক্রেতাই গরু বা খাসির মাংস বাদ দিয়ে বিকল্প আমিষের দিকে ঝুঁকছেন।

তবে মুরগির বাজারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তির খবর আছে। আগে যেখানে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১৯০–২০০ টাকা ছিল, এখন তা নেমে এসেছে ১৫০–১৬০ টাকায়। সোনালি মুরগির দামও কমে কেজিতে ২৬০–২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল—প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন